জাদুকর
যতক্ষণ দহনে থাকো
দেখি পাথরে খোদাই করে ঝর্ণা আঁকছো তুমি ।
আঁকছো মেঘেদের সংসার, মেঘেদের ছেলে মেয়ে,
খুনসুটি, থালাবাসন ছোঁড়া ঝগড়ার আবহমান ছবি।
স্কুলবাড়ির পিছনে কাঠবাদামের গাছ
পাখপাখালির কোলাহল জুড়ে বিকেল স্তবক,
তাদের বাসা বাঁধা, তাদের অসুখ বিসুখ,
আঁকো লাল মোরামের পথ দিয়ে
ঘর ফেরা মানুষ জনের আবছায়া সাইকেল।
যতক্ষণ দহনে থাকো তুমি
আগুন পোশাকে তোমাকে জাদুকর মনে হয়।
আর পৃথিবীটা আস্ত গোলক হয়ে
তোমার পায়ের কাছে গড়িয়ে যায়...
ওই বালা পরা হাতের কাছে
যে বালা পরা হাতে কলমি শাক তুলে আনো
সেই হাতের সাথে আমি গোপনে
সেতু সন্ধি করেছি।
আধপোড়া কপালের দোষে দিন কাটে তরঙ্গে তরঙ্গে,
নয়নতারার ঝোপে ঢাকা আচ্ছন্ন পথদিয়ে
গড়িয়ে যাওয়া পৃথিবী দেখে দেখে দিনকাটে।
কখন শ্লোগান বাজিয়ে মিছিল চলে যায়
কখন মকাইএর খেতে অর্ধনগ্ন কাকতাড়ুয়া ঝিমোয়,
দুয়ারে চিঠি ফেলে চলে যায় পিওন,
গ্রাম দেবতা চৌকাঠে আলোর মুকুট পরে দাঁড়ায়,
ডুলুং টিলাকে পরিধিতে রেখে
চলে যায় দূরগামী ট্রেন।
এতো কিছু সমীকরণ ফেলে
তবু মনে হয়, সান্ধ্য প্রস্তাব পেলে
আলোছায়ার সিঁড়ি দিয়ে তোমার ঘরে উঠে যাই।
ওই বালা পরা হাতেই রাখি সেতু সন্ধির পরাবার!

0 মন্তব্য
আপনার মন্তব্য জানান