আমি হাঁটি, হাঁটতে থাকি, হাঁটতে হাঁটতে একদিন সমুদ্রের
কাছে পোঁছে যাই
এটা সেই সমুদ্র যার মধ্যে ভাবনার ঢেউয়ে লুটোপুটি
খেয়েছি এতোটা বছর ।
জলে রঙে ছবি এঁকেছি ,কখনো প্রস্তর যুগের কখনোবা
আজ দুপুরের,
রঙে মিশিয়েছি নেশাতুর সন্ধ্যা - দ্রুত হেঁটে গেছি, পাকুড়
থেকে পাকুড়তলার বারান্দায় , এ পথেই বৃষ্টিতে
একদিন ভেসেছিলাম । প্রথমে বৃষ্টি ও রোদ, তারপর ছায়া
বিকেলের রঙ ।
হাঁটতে হাঁটতে প্রথমে মন্দির
তারপর গীর্জাঘর ,মসজিদ এবং সবশেষে বেশ্যাপাড়া ।
পরিচিত মুখ, পরিচিত নারীর দল, রঙমাখা
শরীরের ঢেউ, নাভির আড়ালে মাংসাশী আহ্ববান,
মন ও মাংসের বিক্রি-সন্ত্রাস ।
আমি দ্রুত হাঁটছি , অনেকেই পিছিয়ে গেছে । অনেকেই
চিনে গেছে নদীর গতিপথ
অথবা অন্য পথ ।
আমার পথের পরিবর্তন হয়না
থামতে পারিনা , পালাতে পারিনা সত্যের সংশয় থেকে ।
এবং চুপচাপ এই হাঁটা চলার পথে ফুলেরা বিক্রির ডালে
সেজে বসে থাকে । শরীর থেঁতলে দিয়ে চলে যায়
এক পুরুষ , আমি তার পরিচয় জানি,
আমারই অবয়ব
আমারই মতো নিশুতির পাখির বুকে ঢেলে দেয় বিষ
প্রতিদিন ।
আজকাল শুধু হাঁটি শব্দের সন্ধানে, ভাবনা জ্বলে গেছে
শুধু মুখোমুখি চিতার অথবা কবরের আশেপাশে
শকুনের চোখে আমার ক্ষতের ঘুমন্ত কাহিনী, আমি লিখি
হাড়িকাঠে উন্মাদের নিষ্ঠূর উল্লাস, ক্ষুধার দর্পণে, দুই পা
ছড়িয়ে দিলেই হলো, তারপর অদৃশ্য ঈশ্বর বধিরতা দেবে
পুরুষাঙ্গের গোপন আদেশে ।
গন্ধ শরীরের কাছে আসে কেউ কেউ,কে আসে,চিনিনা
তাকে, তবু আসে । শরীর পুড়িয়ে চলে যায়
মন নাই । শূন্যমার্গ - স্রোত, রঙের শূন্যতা , খন্ডিত ধর্মভেদ
আরো কতটা বধিরতা পেলে ক্ষমতার প্রয়োজনে থেঁতলে দেবে
ফুলের ডালপালা ।

0 মন্তব্য
আপনার মন্তব্য জানান