অন্ধকারের পাশে বসে আছি সেই থেকে।
ঘাই মারছে বুকে আঁশটে পাখি।ঠোঁটের কোণে লেগে কালচে রক্ত। উঠে দাঁড়াতে চাইলেও পারি না।
প্রতিবার বিস্কুটের মত টুকরো টুকরো মেঘ ভেঙে পড়ে আমবনে। ভেসে যায় সমস্ত কথা দেয়া।
নির্বাচনের আগে বলে যাওয়া স্তোক। আলেয়ার আলো দুর বাদাবনে জ্বলে।পারি না কিছুই। ভুতগ্রস্থের মতো বসে থাকা কেবল। বিষণ্ণতার
অহংকারে ডুবে থাকা নিরাপদ দূরত্বে।
সকালবেলা যখন কবিতা এসে দাঁড়িয়েছিল
ওর সারা গায়ে লালচে ক্ষতের দাগ। সীমাহীন স্বামীত্বের প্রহারে ওর ঠোঁট ঝুলে আছে।
ফুলে গেছে। তারপর কবিতা চলে গেছে যেমন
গলি থেকে ছায়া সরে যায়।
কোর্টে গেছে বারংবার ধর্ষিতা মেয়েটি যাকে প্রতিবার আরও তাজা করে তুলছে জখম কোর্টের
নারীবাদী জজ । প্রশ্নে প্রশ্নে ছয়লাপ আকাশ-বাতাস। হাউহাউ কান্নার স্রোতে মেয়েটা বাড়ি আর ফিরতে চাইছে না। ওকে আলো দেবে কে,কাহারা?
কবিতা একদিন হারিয়ে গেছে এপাড়া থেকে
বেপাড়ার প্রণয়ে। আর যেই হোক সে ভাত দেবার ভাতার নয় এই তার স্বস্তির কথা।
অন্ধকার থেকে আরেক অন্ধকার পাতা উল্টে যায়
সরতে সরতে দেওয়ালের গায়ে পিঠ। বসে থাকি বেদনার মতো অকৃপণ।
অনেকদিন ধরে এখানে নিম্নচাপ চলে। সন্ধ্যা চুপচাপ বসে থেকে থেকে নিঃসঙ্গ রাতে ডুবে মরে দৈনিক। আমি এখনও আশা করে থাকি তোমাদের সুপ্রভাত। আমি কবিতার কথা ভাবি।
যদিও সাঁকো ভেঙে গেছে । ঘর ভেঙে গেছে। বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে মরে গেছে দলে দলে ধান গাছ। মেয়েটি বসে আছে তবু ট্রেনের অপেক্ষায়।
হয়ত একদিন উণ্ণাসিক এই পাড়ায় ফিরে আসবে কবিতা। সন্ধ্যার সবিতা রিমোট কন্ট্রোলে পাল্টে ফেলবে বরের সব দুরাচার।
বিক্রমাদিত্য হোক বা কেরানি, পথ শেষে পড়ে থাকে শুধু এক মুঠো ছাই ।
এই কথা জানাজানি হলে উঠে দাঁড়াব সেদিন।
তিমির স্রোত
-- জয়িতা ভট্টাচার্য

0 মন্তব্য
আপনার মন্তব্য জানান